promotion

ক্রেডিট কার্ড কী, সহজে যেভাবে ক্রেডিট কার্ড (Credit Card) পাবেন


বাংলাদেশের প্রায় সব বাণিজ্যিক ব্যাংক ক্রেডিট কার্ড সেবা দিয়ে থাকে। ক্রেডিট কার্ড নিয়ে অনেকেরই আগ্রহ রয়েছে। কিন্তু অনেকেই জানেন না
ক্রেডিট কার্ড কীভাবে নিতে হয়। এছাড়া এর জন্য কী কী প্রয়োজন। ক্রেডিট কার্ড কী? সহজে কিভাবে পাওয়া যাবে চলুন বিশদ জেনে নেই;

ক্রেডিট কার্ড কী (What is credit card)

সহজ কথায় ক্রেডিট কার্ড হলো ঋণপত্র। যে কার্ডের মাধ্যমে ব্যাংক আপনাকে নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা ঋণ দেয়। যা প্রতি মাসের ১৫ তারিখের মধ্যে ব্যাংককে পরিশোধ করে দিতে হয়।

সাধারণ অন্যান্য ব্যাংক কার্ডের মতোই ক্রেডিট কার্ডে কার্ডধারীর নাম, কার্ডের নাম্বার, মেয়াদ ও  সিভিসি নম্বর থাকে। এ কার্ডে ব্যাংক মূলত ব্যববহারকারীকে আগাম (ঋণ) ব্যয়ের সুবিধা দিয়ে থাকে। ব্যববহারকারী অনুযায়ী প্রতিটি কার্ডের ক্ষেত্রে ভিন্ন ভিন্ন ক্রেডিট লিমিট থাকে। লিমিট শেষ হয়ে গেলে ওই অর্থ পরিশোধ করার পর আবার লিমিট চলে আসবে।

ক্রেডিট ও ডেবিট কার্ডের মধ্যে যে পার্থক্য:

ক্রেডিটকার্ডে ব্যাংক আগে থেকেই নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা জমা করে দেয়। যা মূলত গ্রাহকের ঋণ। এ টাকা খরচের পর নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পরিশোধ করে আবার ওই অর্থ ব্যবহার করা যায়। কিন্তু ডেভিড কার্ড হলো গ্রাহকের সঞ্চিত টাকা এ কার্ডের মাধ্যমে উত্তোলন ও খরচ করতে পারবেন। এখানে ব্যাংক আগাম কোনো টাকা দেয় না। আপনার ব্যাংক একাউন্টে টাকা থাকলে ডেবিট কার্ড দিয়ে লেনদেন করতে পারবেন।


ক্রেডিট কার্ডে যেসব সুবিধা রয়েছে:

  • তাৎক্ষণিক নিরাপদ পেমেন্ট করা যায়।
  • অন্যান্য কার্ডের তুলনায় বেশি নিরাপদ। পেমেন্ট করার সময় মার্চেন্টের সেবায় কোনো ত্রুটি পেলে সহজেই রিফান্ড আবেদন করা যায়।
  • কার্ডে কেনাকাটা করে প্রতিমাসে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে টাকা পরিশোধ করলে কোনো সুদ দিতে হয় না। অধিকাংশ ব্যাংকেই এ নিয়ম চালু রয়েছে।
  • বিভিন্ন শপে কেনাকাটায় ক্যাশব্যাক পাওয়া যায়।
  • সাধ্য অনুযায়ী বিভিন্ন সুবিধার কার্ড (গোল্ড, প্লাটিনাম) নেওয়া যায়।
  • কেনাকাটায় বোনাস হিসেবে পয়েন্ট দেওয়া হয়।

কিছু অসুবিধা:

  • টাকা খরচের প্রবণতা বৃদ্ধি পায়। কার্ড হাতে থাকলেই খরচ করতে ইচ্ছে করে।
  • খরচ করা ক্রেডিট প্রতি মাসে নির্দিষ্ট সময়ে পরিশোধ না করলে সুদ গুনতে হয়।
  • ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার না করলেও কার্ড চালু রাখলেই বার্ষিক ফি দিতে হয়।

ক্রেডিট কার্ডে ডুয়েল কারেন্সি

সিঙ্গেল কারেন্সির ক্রেডিট কার্ড শুধুমাত্র দেশের মধ্যে কাজ করবে। তবে আপনি চাইলে ডুয়েল কারেন্সির কার্ড নিতে পারেন। এর ফলে আপনি এ কার্ড দিয়ে বিশ্বের যেকোনো দেশে ব্যবহার করতে পারবেন। এছাড়া দেশে থেকেই অনলাইনে বিশ্বের কোনো শপ থেকে কেনাকাটায় পেমেন্ট করতে পারবেন।

ক্রেডিট কার্ডে ডুয়েল কারেন্সি সুবিধা নিলে বাংলাদেশি টাকা ও মার্কিন ডলার দুটো মুদ্রাতেই পেমেন্ট করা যাবে। সাধারণত কার্ডের আবেদন করার সময় কিংবা পরে ব্যাংকের প্রতিনিধিকে জানালে তারা ডুয়েল কারেন্সি আবেদন গ্রহণ করবেন। তারপর ডলার খরচ করতে হলে আগে আপনার পাসপোর্টের ক্রেডিট কার্ডের রেফারেন্সে নির্ধারিত পরিমাণ ডলার এন্ডোর্স করে নিতে হবে। আপনার চাহিদা অনুযায়ী ডলার এন্ডোর্স করতে পারবেন। কার্ডে ডুয়েল কারেন্সি থাকার ফলে দেশের বাইরে খরচ করতে আপনাকে আর কোনো ঝামেলা পোহাতে হবে না।

ক্রেডিট কার্ড পেতে হলে যা প্রয়োজন:

বাংলাদেশের নাগরিক; যারা চাকরি বা ব্যবসা করেন। তারাই ক্রেডিট কার্ড পেতে পারেন। এছাড়া বেশ কিছু ডকুমেন্ট প্রয়োজন হয়।

  • জাতীয় পরিচয় পত্র (এনআইডি)।
  • পাসপোর্ট সাইজ ছবি।
  • স্থানীয় আত্মীয় ও পরিচিত চাকরিজীবি বা ব্যবসায়ীয় রেফারেন্স।
  • টিআইএন সার্টিফিকেট
  • চাকরিজীবি হলে প্রত্যয়ন পত্র ও ৬ মাসের ব্যাংক স্টেটমেন্ট।
  • ব্যবসায়ীদের জন্য ট্রেড লাইসেন্স, ৬ মাসের ব্যাংক স্টেটমেন্ট।

ক্রেডিট কার্ড যেভাবে পাবেন:  (how to get a credit card)

উল্লেখিত প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস আপনার কাছে থাকলে খুব সহজেই যে কোনো ব্যাংকে ক্রেডিট কার্ডের জন্য আবেদন করতে পারবেন। ব্যাংকে ক্রেডিট কার্ড বিভাগে যোগাযোগ করে আবেদন ফরম পূরণ করে উল্লেখিত ডকুমেন্টসহ (ব্যাংক কর্তৃক চাওয়া) জমা দেবেন। সবকিছু ঠিক থাকলে সাত থেকে দশ কার্যদিবসের মধ্যে আপনি ক্রেডিট কার্ড পেয়ে যাবেন। আপনার আয়ের ওপর ভিত্তি করে আপনার অনুমতি নিয়ে কার্ডের ক্রেডিট লিমিট নির্ধারণ করবে ব্যাংক। বর্তমানে মাসে অন্তত ২০ হাজার টাকা বেতন ও নিম্নে একবছর চাকরির মেয়াদ হলে ক্রেডিট কার্ডের আবেদন করা যায়।

ক্রেডিট কার্ড নিতে খরচ:

বর্তমানে বেশিরভাগ ব্যাংক বিনামূল্যে ক্রেডিট কার্ড ইস্যু করে। তবে কার্ডের বাৎসরিক ফি বিভিন্ন ব্যাংকে ভিন্ন হতে পারে। তবে এ ফি অন্তত এক হাজার টাকা হয়ে থাকে।  

বাংলাদেশে যেসকল বাণিজ্যিক ব্যাংক ক্রেডিট কার্ড দেয় তার মধ্যে উল্লেখ্যযোগ্য;

১। ডাচ বাংলা ব্যাংক

ডাচ বাংলা ব্যাংক ২০০৮ সালে থেকে ভিসা ইএমভি ক্রেডিট কার্ড সেবা দিচ্ছে। এ ব্যাংকে ক্রেডিট কার্ড সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন।

২। সিটি ব্যাংক

সিটি ব্যাংক একাধিক ধরনের ক্রেডিট কার্ড দিয়ে থাকে। বিস্তারিত জানতে ঘুরে আসুন সিটি ব্যাংকের ওয়েবসাইট

৩। ব্র্যাক ব্যাংক

ব্র্যাক ব্যাংক একাধিক ধরনের ক্রেডিট কার্ড দিয়ে আসছে। এ নিয়ে আরো বিস্তারিত জানতে ব্র্যাক ব্যাংকের ওয়েবসাইট দেখুন।

৪। স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক

স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক অনেক দিন ধরে একাধিক ধরনের ক্রেডিট কার্ড সেবা দিচ্ছে। এ ব্যাংকের দেওয়া সকল ক্রেডিট কার্ড সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন।

৫। ইস্টার্ন ব্যাংক

ইস্টার্ন ব্যাংক একাধিক ক্রেডিট কার্ড দিচ্ছে। এ ব্যাংকের দেওয়া সকল ক্রেডিট কার্ড সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন।

আরো পড়ুন: 

মন্তব্যসমূহ

Advertise

Advertise
Attar - Chocolate Fragrance Perfume | Daraz | Buy Now

promotional

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

অনলাইনে ক্যাপচা এন্ট্রি করে আয় করুন, সেরা ১০টি জব সাইট

নার্সারি ব্যবসার আদ্যোপান্ত, ঝুঁকি কম লাভ বেশি

অনলাইনে অডিও শুনে টাকা আয় করুন, যেভাবে হবেন ট্রান্সক্রিপশনবিদ

Promotional