টাকা বিনিয়োগ ছাড়া কীভাবে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং ব্যবসা শুরু করবেন
অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং (Affiliate Marketing) ইন্টারনেটে টাকা আয়ের জনপ্রিয় একটি মাধ্যম। তবে এ ব্যবসায় সফল হতে গেলে আপনাকে জানতে হবে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং কী?
এখানে ব্যবসাটি নিয়ে বিস্তারিত বর্ণনা করা হয়েছে। অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং
কী? কীভাবে অনলাইনে এ ব্যবসায় কোনো টাকা বিনিয়োগ ছাড়াই অর্থ আয় করা যায়।
আসুন অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং সম্পর্কে জেনে নেই:
অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং হলো অন্য কারো পণ্য বা সেবা প্রচার করে বিক্রি হওয়া
পণ্য থেকে কমিশন আয়ের একটি পদ্ধতি।
অ্যামাজন বা অন্য কোনো ই-কমার্স মার্কেটপ্লেস থেকে একটি পণ্য রেফারেল লিঙ্কের
মাধ্যমে আপনার সামাজিক মাধ্যম কিংবা অন্য কোনো অনলাইন মাধ্যমে প্রচার করুন। এই রেফারেল
লিঙ্ক পেতে আপনাকে ওই মার্কেটপ্লেসের অ্যাফিলিয়েট হিসেবে আগে সাইন আপ করে নিতে হবে।
অ্যামাজনের মতো অনেক মার্কেটপ্লেস আছে যারা অ্যাফিলিয়েট হিসাবে সাইন আপ
করতে আপনাকে সুযোগ দেবে। সেখানে প্রত্যেক মার্চেন্ট তাদের পণ্যের প্রচার করার জন্য
আপনাকে একটি ইউনিক রেফারেল লিঙ্ক দেবে। যখন কেউ সেই লিঙ্কে ক্লিক করে কেউ ওই পণ্যটি
কিনবে তখন আপনি একটি কমিশন পাবেন।
চার ধাপে সহজ ব্যবসা:
১। আপনি প্রচার করার জন্য সঠিক পণ্য খুঁজে বের করুন।
২। সেরা মার্কেটপ্লেসে অ্যাফিলিয়েট হিসাবে সাইন আপ করুন।
৩। রেফারেল লিঙ্ক আপনার সামাজিক মাধ্যম ও অন্যান্য অনলাইন প্লাটফর্মে প্রচার
করুন।
৪। রেফারেল থেকে প্রতিটি বিক্রি থেকে কমিশন গ্রহণ করুন।
পণ্যের রেফারেল যেখানে প্রচার করবেন:
ফেসবুক আইডি বা পেজ, ইউটিউব, পিন্টারেস্ট, হোয়াটস অ্যাপ ও ওয়েব সাইটে ওই পণ্যের বিজ্ঞাপন প্রচার করতে পারেন। এ ব্যবসায় সফল হতে আপনার পেজ বা প্লাটফর্মের থিমের সঙ্গে মিল রেখে পণ্য বাছাই করবেন।
মার্কেটপ্লেসে বিশ্বের সব ই-কমার্স কোম্পানি অ্যাফিলিয়েট চালু করেনি। কারণ
অ্যাফিলিয়েট প্রোগ্রাম চালাতে প্রচুর পণ্য ও অর্থের প্রয়োজন হয়। এছাড়া অ্যাফিলিয়েট
ট্র্যাকিং সিস্টেম চালাতে উচ্চ ব্যয়ে সিস্টেম পরিচালনা সবার পক্ষে সম্ভব হয় না।
আমাজন (Amazon), ইবে (eBay), ক্লিকব্যাঙ্ক (ClickBank), কমিশন জংশনের (Commission Junction) মতো বেশ কিছু জনপ্রিয় আন্তর্জাতিক ই-কমার্স প্লাটফর্ম রয়েছে। যারা অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর সুযোগ দেয়। বিক্রির জন্য তাদের কাছে লাখো পণ্যের সরবরাহ রয়েছে। এ ব্যবসায় নতুনদের জন্য এখানে বড় সম্ভাবনা হলো এখানে পছন্দের পণ্য ও কোম্পানি বেছে নেওয়ার বিকল্প সুযোগ আছে। উল্লেখিত সাইটগুলোতে প্রবেশ করে শুরু বা নিচের অংশে অ্যাফিলিয়েট (Affiliate) অপশনে প্রবেশ করে সাইন আপ করুন।
কেন অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং ব্যবসা শুরু করবেন:
অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং ব্যবসা করার সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো যে পণ্যগুলো
বিক্রি হবে সেগুলো আপনাকে কিনতে হবে না একইসঙ্গে ক্রেতার কাছে পাঠাতে হবে না। এ দুটো
কাজ করবে ই-কমার্স প্লাটফর্ম ও মার্চেন্ট। আপনি শুধুমাত্র ক্রেতা ও সেবা গ্রহীতাকে
রেফারেল লিঙ্ক দেবেন।
আপনার এতটুকু কাজই যথেষ্ট। পণ্যের ওপর নির্ভর করে ১০ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত
কমিশন পেতে পারেন। কিছু প্লাটফর্ম আজীবন এ কমিশন সুবিধা প্রধান করে। এখানে অফুরন্ত
অর্থ আয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। আপনি যদি এখান থেকে বেশি আয় করতে যান তবে উল্লেখিত পরামর্শ
অনুসরণ করে শুরু করুন।
সফল অ্যাফিলিয়েট মার্কেটার হতে যা করবেন:
প্রচারণার প্লাটফর্ম প্রস্তুত করুন:
পণ্যের বিজ্ঞাপন প্রচার করতে মাধ্যম ঠিক করুন। আপনি কোথায় এ বিজ্ঞাপন প্রচার করবেন। আপনার যদি জনপ্রিয় কোনো ফেসবুক পেজ বা আইডি থাকে, সেখানে অনেক ফ্যান, ফলোয়ার রয়েছে।এছাড়া যদি ইউটিউব চ্যানেল কিংবা অন্যান্য কোনো মাধ্যম থাকে যেখানে প্রতিদিন অন্তত ৫০০ থেকে ৭০০ জন ভিজিট করেন। সেখানে প্রচারণা চালাতে পারেন। আর এমন কোনো মাধ্যম না থাকলে তাহলে সেটা প্রস্তুত করুন।
সেরা অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং প্ল্যাটফর্ম বেছে নিন:
এ ব্যবসা শুরু করার আগে একটি জনপ্রিয় ও সেরা অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং প্ল্যাটফর্ম
বাছাই করুন। এতে কিছু সময় ব্যয় করে এর বৈশিষ্ট্য ও সুযোগ-সুবিধা ভালো করে পড়ে বুঝে
নিন। আপনি চাইলে এখানে উল্লেখিত প্ল্যাটফর্মগুলো বেছে নিতে পারেন।
পণ্য নির্বাচন করুন:
আপনার প্রচারণার মাধ্যমের সঙ্গে সম্পর্কিত পণ্য নির্বাচন করুন। যেমন; আপনার প্রচার মাধ্যম যদি হয় ফিটনেস সম্পর্কিত তাহলে ফিটনেস ক্যাটাগরির পণ্য নির্বাচন করুন। এতে বিক্রির সম্ভাবনা অধিকগুণে বেড়ে যায়।
কীভাবে পণ্যের প্রচার চালাবেন:
একটি পণ্য প্রচার চালানোর আগে বেশ কিছু সতর্কতা অবলম্বন করা উত্তম। আপনি
যে পণ্যটি প্রচার করছেন সেটির সম্ভাব্য গ্রাহক চাহিদা নিয়ে গবেষণা করুন। আপনি যে ধরণের
কন্টেন্ট তৈরি করেন তার বিপরীতমুখী কোনো পণ্য বাছাই করবেন না।
আপনার ভিজিটরদের চাহিদা ও রুচি বুঝার চেষ্টা করুন। যে অনুযায়ী বিজ্ঞাপনের
জন্য পণ্য বাছাই করুন। আপনি ইমেইল, মোবাইল ম্যাসেজ, ওয়েব সাইটে নিবন্ধন লিখে সেখানেও
বিজ্ঞাপণ প্রচার করতে পারেন। তবে আপনার প্রচার মাধ্যমে ফ্যান-ফলোয়ার বা ভিজিটর যত বেশি
থাকবে, পণ্য বিক্রির সম্ভাবনা তত বেশি।
লেখকের মন্তব্য:
অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং কোনো যাদুর কাঠিন নয় যে দ্রুত অনেক আয় করে ফেলবেন।
এ ব্যবসায় সফল হতে হলে আপনার মেধাবী পরিশ্রম প্রয়োজন। এ ছাড়া সফল হওয়ার প্রবল ইচ্ছা
থাকতে হবে। এ ব্যবসায় সফলাতা পেতে হলে কিছুটা সময় প্রয়োজন। তবে যখন পরিশ্রমের ফল পেতে
শুরু করবেন তখন কষ্ট স্বার্থক।
আরো পড়ুন:





মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন